দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৬৭/৭৬৮) বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের অধীনে পরিচালিত হয়। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন যেটিতে এক যাত্রায় দুইবার লোকোমোটিভ ঘুরানো হয় — পার্বতীপুর ও কাউনিয়া জংশনে। ট্রেনটি ১৬ মার্চ ১৯৮৬ সালে উদ্বোধন হয় এবং ২০০৩ সালে যমুনা রেলওয়ে সেতু চালু হওয়ার পর সান্তাহার থেকে চলাচল শুরু করে। ২০২২ সালের ১১ জুন ট্রেনটির রুট পঞ্চগড় পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। সান্তাহার থেকে পঞ্চগড়ের মোট দূরত্ব ৩৪৭ কিলোমিটার।

 

সময়সূচী

ট্রেন নংরুটছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক ছুটি
৭৬৭সান্তাহার → পঞ্চগড়সকাল ১১:০০রাত ৮:৪০নেই
৭৬৮পঞ্চগড় → সান্তাহারসকাল ৬:০০বিকাল ৪:১৫নেই

⚠️ সতর্কতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সময়ের সামান্য হেরফের হতে পারে। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো উচিত।

 

বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী

স্টেশনের নাম৭৬৭ (সান্তাহার→পঞ্চগড়)৭৬৮ (পঞ্চগড়→সান্তাহার)
সান্তাহার১১:০০ (ছাড়ে)— (পৌঁছায়) বিকাল ৪:১৫
তালোড়া১১:২৩
বগুড়া১১:৪৯১৪:৪০
সোনাতলা১২:৪০
বোনারপাড়া১৩:০৪১৪:৩৪
বাদিয়াখালী১৩:১৮১৪:০৫
গাইবান্ধা১৩:৩৫১২:৪২
কাউনিয়া১৪:৫৫১০:৫৫
রংপুর১৫:৪২১০:২৬
পার্বতীপুর১৬:৪০০৯:১৫
চিরিরবন্দর১৭:২০
দিনাজপুর১৭:৪২০৮:২৮
সেতাবগঞ্জ
পীরগঞ্জ১৮:৪৮০৭:২৫
ভোমরাদহ১৯:০০০৭:১৩
ঠাকুরগাঁও রোড১৯:২০০৬:৫১
রুহিয়া
কিসমত
পঞ্চগড়২০:৪০ (পৌঁছায়)০৬:০০ (ছাড়ে)

 

ভাড়ার তালিকা

আসনের শ্রেণিভাড়া
শোভন (Shovon)৩৪০ টাকা
শোভন চেয়ার (Shovon Chair)৪০৫ টাকা
স্নিগ্ধা / এসি চেয়ার (Snigdha)৬২১ টাকা

💡 পরামর্শ: দীর্ঘ যাত্রার জন্য শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক বিকল্প। বয়স্ক বা অসুস্থ যাত্রীদের জন্য স্নিগ্ধা ক্লাস বেছে নেওয়া ভালো।

 

স্টপেজ তালিকা (জেলাভিত্তিক)

বগুড়া জেলা: তালোড়া, বগুড়া মেইন স্টেশন
গাইবান্ধা জেলা: সোনাতলা, মহিমাগঞ্জ, বোনারপাড়া, বাদিয়াখালী, গাইবান্ধা সদর
রংপুর জেলা: বামনডাঙ্গা, পীরগাছা, কাউনিয়া জংশন, রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, খোলাহাটি
দিনাজপুর জেলা: পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর সদর, সেতাবগঞ্জ
ঠাকুরগাঁও জেলা: পীরগঞ্জ, ভোমরাদহ, ঠাকুরগাঁও রোড
পঞ্চগড় জেলা: রুহিয়া, কিসমত, পঞ্চগড় (বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম)

 

টিকিট বুকিং গাইড

১. অনলাইনে টিকিট কাটুন:
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd ভিজিট করুন। লগইন করে গন্তব্য ও তারিখ সিলেক্ট করুন, বিকাশ বা নগদে পেমেন্ট করুন এবং ই-টিকিট ডাউনলোড করুন।

২. স্টেশন কাউন্টার থেকে:
ট্রেন ছাড়ার ২-৩ দিন আগেই কাউন্টারে গিয়ে টিকিট সংগ্রহ করুন। সরকারি ছুটির দিনে অন্তত ১০ দিন আগে টিকিট বুক করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. Rail Sheba অ্যাপ:
স্মার্টফোনে Rail Sheba অ্যাপ ডাউনলোড করে যেকোনো সময় টিকিট চেক ও বুক করুন।

 

১০টি সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?
দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস সান্তাহার জংশন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (পঞ্চগড়) পর্যন্ত চলাচল করে। মাঝে বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, পার্বতীপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ মোট ২১টিরও বেশি স্টেশনে থামে।

২. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
হ্যাঁ, দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই। এটি সপ্তাহের সাত দিনই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করে।

৩. সান্তাহার থেকে পঞ্চগড় যেতে কত সময় লাগে?
ট্রেন নং ৭৬৭ সান্তাহার থেকে সকাল ১১:০০ টায় ছেড়ে রাত ৮:৪০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌঁছায়। মোট ভ্রমণ সময় প্রায় ৯ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

৪. পঞ্চগড় থেকে সান্তাহার যেতে কত সময় লাগে?
ট্রেন নং ৭৬৮ পঞ্চগড় থেকে সকাল ৬:০০ টায় ছেড়ে বিকাল ৪:১৫ মিনিটে সান্তাহার পৌঁছায়। মোট ভ্রমণ সময় প্রায় ১০ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

৫. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসে কোন কোন শ্রেণির আসন আছে?
এই ট্রেনে তিনটি শ্রেণির আসন রয়েছে — শোভন (৩৪০ টাকা), শোভন চেয়ার (৪০৫ টাকা) এবং স্নিগ্ধা বা এসি চেয়ার (৬২১ টাকা)।

৬. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের অনলাইন টিকিট কিভাবে পাবো?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd অথবা Rail Sheba মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়। বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।

৭. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস কবে চালু হয়েছিল?
দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ১৯৮৬ সালের ১৬ মার্চ উদ্বোধন হয়। ২০০৩ সালে যমুনা রেলওয়ে সেতু চালু হওয়ার পর সান্তাহার থেকে চলাচল শুরু করে এবং ২০২২ সালের ১১ জুন রুটটি পঞ্চগড় পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

৮. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস রংপুর কখন পৌঁছায়?
সান্তাহার থেকে আসা ট্রেন নং ৭৬৭ রংপুর স্টেশনে পৌঁছায় বিকাল ৩:৪২ মিনিটে এবং পঞ্চগড় থেকে আসা ট্রেন নং ৭৬৮ রংপুরে পৌঁছায় সকাল ১০:২৬ মিনিটে।

৯. এই ট্রেনে কি এসি কোচ আছে?
হ্যাঁ, দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসে স্নিগ্ধা ক্লাসের এসি কোচ রয়েছে। যারা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভ্রমণ করতে চান তারা ৬২১ টাকার স্নিগ্ধা টিকিট কাটতে পারেন।

১০. দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসে কেন দুইবার ইঞ্জিন ঘোরানো হয়?
রুটের বিশেষ কারণে পার্বতীপুর ও কাউনিয়া জংশনে দিক পরিবর্তনের জন্য লোকোমোটিভ ঘুরানো হয়। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন যেটিতে এই বিরল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।