করতোয়া এক্সপ্রেস: উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন

করতোয়া এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭১৩/৭১৪) বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। বগুড়া জেলার বিখ্যাত করতোয়া নদীর নামে নামকরণ করা এই ট্রেনটি ১৭ মার্চ ১৯৮৬ সালে প্রথম উদ্বোধন হয়। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশে আন্তঃনগর ট্রেন সেবা চালু হলে করতোয়া এক্সপ্রেস সেই প্রথম সারির ট্রেনগুলোর একটি ছিল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি উত্তরবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের ভরসার নাম।

রুট ও স্টেশন তালিকা

ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম জোনের আওতায় সম্পূর্ণ মিটারগেজ রেললাইনে চলে। এটি বগুড়া (রাজশাহী বিভাগ), গাইবান্ধা, রংপুর এবং লালমনিরহাট (রংপুর বিভাগ) — মোট চারটি জেলার মধ্য দিয়ে যায়। সান্তাহার জংশন থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। ২০১২ সালে ট্রেনটির রুট লালমনিরহাট থেকে স্থলবন্দর বুড়িমারী পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়, এবং তখন থেকে এটি এই রুটের একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন।

করতোয়া এক্সপ্রেস ৭১৩ (সান্তাহার → বুড়িমারী) সময়সূচী ২০২৬

ট্রেন নং ৭১৩ সান্তাহার থেকে সকাল ৯:২৫ মিনিটে ছেড়ে বুড়িমারী পৌঁছায় বিকাল ৪:০০ মিনিটে। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। পথে উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলো হলো:

স্টেশনআগমনপ্রস্থান
সান্তাহার০৯:২৫
বগুড়া১০:০৯১০:১৯
সোনাতলা১০:৫১১০:৫৩
মহিমাগঞ্জ১১:০৩১১:০৫
বোনারপাড়া১১:১৫১১:২০
গাইবান্ধা১১:৫৯১২:০৪
বামনডাঙ্গা১২:৩৩১২:৩৫
পীরগাছা১২:৫৩১২:৫৫
কাউনিয়া০১:১২০১:১৫
তিস্তা জংশন০১:২২
লালমনিরহাট০১:৪০০১:৫০
আদিতমারী০২:০৫০২:০৭
কাঙ্কিনা০২:২৫০২:২৭
তুষভান্ডার০২:৩৪০২:৩৬
হাতীবান্ধা০৩:০২০৩:০৪
বারখাতা০৩:১৬০৩:১৮
বাউরা০৩:২৭
পাটগ্রাম০৩:৪৪০৩:৪৭
বুড়িমারী০৪:০০

করতোয়া এক্সপ্রেস ৭১৪ (বুড়িমারী → সান্তাহার) সময়সূচী ২০২৬

ট্রেন নং ৭১৪ বুড়িমারী থেকে বিকাল ৪:২০ মিনিটে ছেড়ে সান্তাহার পৌঁছায় রাত ১০:৪০ মিনিটে। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ২০ মিনিট। পথে উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলো হলো:

স্টেশনআগমনপ্রস্থান
বুড়িমারী০৪:২০
পাটগ্রাম০৪:৩৩০৪:৩৬
বাউরা০৪:৫১
বারখাতা০৫:০২০৫:০৪
হাতীবান্ধা০৫:১৬০৫:১৯
তুষভান্ডার০৫:৪৩০৫:৪৫
কাঙ্কিনা০৫:৫২০৫:৫৪
আদিতমারী০৬:০৮০৬:১০
লালমনিরহাট০৬:২৫০৬:৪৫
তিস্তা জংশন০৭:০১
কাউনিয়া০৭:১০০৭:১৩
পীরগাছা০৭:২৮০৭:৩১
বামনডাঙ্গা০৭:৪৮০৭:৫০
গাইবান্ধা০৮:২০০৮:২৩
বোনারপাড়া০৮:৪৫০৮:৫০
মহিমাগঞ্জ০৯:০০০৯:০২
সোনাতলা০৯:১১০৯:১৩
বগুড়া০৯:৪৫০৯:৫০
সান্তাহার১০:৪০

সাপ্তাহিক বন্ধ

করতোয়া এক্সপ্রেস প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার — সপ্তাহের বাকি ৬ দিন ট্রেনটি নিয়মিত চলাচল করে।

টিকিট বুকিং

বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়। এছাড়া নির্ধারিত রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব। আসন শ্রেণি অনুযায়ী ভাড়া ভিন্ন হয়, তাই বুকিংয়ের আগে অফিসিয়াল সাইটে সর্বশেষ ভাড়া যাচাই করে নেওয়া উচিত।

 

১. করতোয়া এক্সপ্রেস কোন কোন দিন বন্ধ থাকে?
করতোয়া এক্সপ্রেস প্রতি সপ্তাহের বুধবার বন্ধ থাকে। বাকি ছয় দিন (শুক্র, শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার) ট্রেনটি সান্তাহার-বুড়িমারী রুটে নিয়মিত চলাচল করে।

২. সান্তাহার থেকে বুড়িমারী যেতে করতোয়া এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?
সান্তাহার থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত (৭১৩ নং ট্রেন) মোট যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। ট্রেনটি সকাল ৯:২৫ মিনিটে ছেড়ে বিকাল ৪:০০ মিনিটে বুড়িমারী পৌঁছায়।

৩. বুড়িমারী থেকে সান্তাহার ফিরতি ট্রেন কখন ছাড়ে?
৭১৪ নং ট্রেন বুড়িমারী থেকে বিকাল ৪:২০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০:৪০ মিনিটে সান্তাহার পৌঁছায়। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ২০ মিনিট।

৪. করতোয়া এক্সপ্রেস বগুড়া স্টেশনে কখন থামে?
৭১৩ নং ট্রেন বগুড়ায় পৌঁছায় সকাল ১০:০৯ মিনিটে এবং ছাড়ে ১০:১৯ মিনিটে (১০ মিনিট বিরতি)। ৭১৪ নং ট্রেন বগুড়ায় পৌঁছায় রাত ৯:৪৫ মিনিটে এবং ছাড়ে ৯:৫০ মিনিটে।

৫. করতোয়া এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে অথবা নিকটস্থ রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট কাটা যায়।

৬. করতোয়া এক্সপ্রেস কোন কোন জেলায় যায়?
ট্রেনটি বগুড়া (রাজশাহী বিভাগ), গাইবান্ধা, রংপুর ও লালমনিরহাট (রংপুর বিভাগ) — মোট চারটি জেলার মধ্য দিয়ে চলে এবং সীমান্তবর্তী স্থলবন্দর বুড়িমারীতে গিয়ে শেষ হয়।

৭. করতোয়া এক্সপ্রেস কত কিলোমিটার পথ চলে?
সান্তাহার জংশন থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ রুটটি মিটারগেজ রেললাইনে।

৮. গাইবান্ধা থেকে লালমনিরহাট করতোয়া এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?
গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে (দুপুর ১২:০৪) লালমনিরহাট পৌঁছাতে (দুপুর ১:৪০) প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট সময় লাগে।

৯. করতোয়া এক্সপ্রেস কবে থেকে চালু হয়েছে?
করতোয়া এক্সপ্রেস ১৭ মার্চ ১৯৮৬ সালে প্রথম উদ্বোধন হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম দিকের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর একটি এবং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যাত্রীসেবা দিয়ে আসছে।

১০. করতোয়া এক্সপ্রেসে কী কী আসন শ্রেণি পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে করতোয়া এক্সপ্রেসে সাধারণত শোভন, শোভন চেয়ার ও প্রথম শ্রেণির আসন পাওয়া যায়। সর্বশেষ আসন বিভাগ ও ভাড়া জানতে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন।