চিত্রা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৬৩/৭৬৪) ঢাকা–খুলনা পথে চলাচলকারী একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। দর্শনার নিম্নস্থল থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত চিত্রা নদীর নামানুসারে এই ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে। চিত্রা এক্সপ্রেস বর্তমানে খুলনা অঞ্চলের একমাত্র ট্রেন যেটি যমুনা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা পর্যন্ত ব্রডগেজ বগিতে চলাচল করে — যা এই ট্রেনটিকে একটি বিশেষ পরিচয় দিয়েছে।
ট্রেনটিতে মোট ১২টি বগি এবং ৭৮০টি আসন রয়েছে। ঈদসহ বিশেষ উৎসবের সময় যাত্রীদের চাহিদা পূরণে বগির সংখ্যা বাড়ানো হয়। সম্পূর্ণ এসি সুবিধাসহ পরিচালিত চিত্রা এক্সপ্রেস আরামদায়ক যাত্রার জন্য যাত্রীদের কাছে বিশেষভাবে পছন্দের।
ট্রেনের মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | চিত্রা এক্সপ্রেস |
| ট্রেন নং (আপ) | ৭৬৩ |
| ট্রেন নং (ডাউন) | ৭৬৪ |
| রুট | ঢাকা (কমলাপুর) – খুলনা |
| গেজ | ব্রডগেজ |
| মোট বগি | ১২টি |
| মোট আসন | ৭৮০টি |
| সাপ্তাহিক বন্ধ | রবিবার |
| পরিচালনা | বাংলাদেশ রেলওয়ে |
সময়সূচী
৭৬৪ নং চিত্রা এক্সপ্রেস (ঢাকা → খুলনা)
| ষ্টেশনের নাম | সময়সূচী |
|---|---|
| ঢাকা কমলাপুর | 07:30 PM |
| বিমানবন্দর | 07:58 PM |
| জয়দেবপুর | 08:23 PM |
| টাঙ্গাইল | 09:42 PM |
| ইব্রাহিমাবাদ | 10:12 PM |
| এম মনসুর আলী | 10:41 PM |
| উল্লাপাড়া | 11:00 PM |
| বড়াল ব্রিজ | 11:20 PM |
| চাটমোহর | 11:35 PM |
| ঈশ্বরদী | 12:35 AM |
| ভেড়ামারা | 12:58 AM |
| পোড়াদহ | 01:20 AM |
| আলমডাঙ্গা | 01:37 AM |
| চুয়াডাঙ্গা | 01:57 AM |
| কোটচাঁদপুর | 02:49 AM |
| মোবারকগঞ্জ | 03:05 AM |
| যশোর | 03:44 AM |
| নোয়াপাড়া | 04:15 AM |
| খুলনা | 05:00 AM |
৭৬৩ নং চিত্রা এক্সপ্রেস (খুলনা → ঢাকা)
| স্টেশনের নাম | সময়সূচী ২০২৬ |
|---|---|
| খুলনা | 09:00 am |
| নোয়াপাড়া | 09:36 am |
| যশোর | 10:08 am |
| মোবারকগঞ্জ | 10:51 am |
| কোটচাঁদপুর | 11:04 am |
| দর্শনা | 11:31 am |
| চুয়াডাঙ্গা | 11:53 am |
| আলমডাঙ্গা | 12:12 pm |
| পোড়াদহ | 12:29 pm |
| মিরপুর | 12:41 pm |
| ভেড়ামারা | 12:54 pm |
| ঈশ্বরদী | 01:25 pm |
| চাটমোহর | 01:53 pm |
| বড়াল ব্রিজ | 02:09 pm |
| উল্লাপাড়া | 02:30 pm |
| এম মনসুর আলী | 02:49 pm |
| ইব্রাহিমাবাদ | 03:37 pm |
| টাঙ্গাইল | 03:59 pm |
| জয়দেবপুর | 05:11 pm |
| বিমানবন্দর | 05:35 pm |
| ঢাকা কমলাপুর | 06:05 pm |
📌 মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর বিস্তারিত সময়সূচীর জন্য eticket.railway.gov.bd দেখুন।
স্টপেজ তালিকা
৭৬৪ (ঢাকা → খুলনা):
ঢাকা (কমলাপুর) → বিমানবন্দর → বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব → শহীদ এম মনসুর আলী → উল্লাপাড়া → বড়াল ব্রিজ → চাটমোহর → ঈশ্বরদী → ভেড়ামারা → মিরপুর → পোড়াদহ → আলমডাঙ্গা → চুয়াডাঙ্গা → দর্শনা → কোটচাঁদপুর → মোবারকগঞ্জ → যশোর → নওয়াপাড়া → খুলনা
ভাড়ার তালিকা
| আসন বিভাগ | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৫০৫ টাকা |
| প্রথম সিট | ৬৭০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৮৪০ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ১,০০৫ টাকা |
| এসি সিট | ১,০০৫ টাকা |
| এসি বার্থ | ১,৫০৫ টাকা |
ঢাকা থেকে বিভিন্ন স্টেশনের ভাড়ার তালিকা
| স্টেশন | ভাড়ার তালিকা |
|---|---|
| ঢাকা – নোয়াপাড়া | শোভন চেয়ার ৫৯৫, স্নিগ্ধা ১১৩৯, এসি ২০৪৭ টাকা |
| ঢাকা – যশোর | শোভন চেয়ার ৫৬৫, স্নিগ্ধা ১০৮১, এসি ১৯৩৮ টাকা |
| ঢাকা – চুয়াডাঙ্গা | শোভন চেয়ার ৪৭০, স্নিগ্ধা, ৮৯৭, এসি ১৬১০ টাকা |
| ঢাকা – ভেড়ামারা | শোভন চেয়ার ৪১০, স্নিগ্ধা ৭৮২, এসি ১৪০৯ টাকা |
| ঢাকা – ঈশ্বরদী | শোভন চেয়ার ৩৪০, স্নিগ্ধা ৫৫৬, এসি ১১৭৩ টাকা |
| ঢাকা – উল্লাপাড়া | শোভন চেয়ার ২৭৫, স্নিগ্ধা ৫২৫, এসি ৯৩৮ টাকা |
| ঢাকা – ইব্রাহিমাবাদ | শোভন চেয়ার ১৪০, শ্নিগ্ধা ২৭১, এসি ৪৭৮ টাকা |
| ঢাকা – জয়দেবপুর | শোভন চেয়ার ৫০, স্নিগ্ধা ১১৫, এসি ১৫০ টাকা |
📌 ভাড়া যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ ভাড়া নিশ্চিত হতে eticket.railway.gov.bd দেখুন।
টিকিট বুকিং
চিত্রা এক্সপ্রেসের টিকিট eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে অনলাইনে কাটা যাবে। এছাড়া কমলাপুর বা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব। জনপ্রিয় ট্রেন হওয়ায় আগে থেকেই বুক করে রাখা ভালো।
📌 সর্বশেষ আপডেট পেতে এই পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন।
সাধারারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?
উত্তর: চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে যমুনা সেতু হয়ে ঈশ্বরদী, পোড়াদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথে চলে। মোট ১৯টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: খুলনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর ৭৬৩ এবং ঢাকা থেকে খুলনাগামী ট্রেনের নম্বর ৭৬৪।
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেস কোন দিন বন্ধ থাকে?
উত্তর :চিত্রা এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। বাকি ৬ দিন ট্রেনটি ঢাকা–খুলনা রুটে নিয়মিত চলাচল করে।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে চিত্রা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: ৭৬৪ নং ট্রেন ঢাকার কমলাপুর থেকে সন্ধ্যা ১৯:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং পরদিন ভোর ০৪:৪০ মিনিটে খুলনা পৌঁছায়।
প্রশ্ন: খুলনা থেকে চিত্রা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: ৭৬৩ নং ট্রেন খুলনা থেকে সকাল ০৯:০০ মিনিটে ছাড়ে এবং বিকাল ১৮:০৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুরে পৌঁছায়।
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেস কি যমুনা সেতু দিয়ে যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। চিত্রা এক্সপ্রেস বর্তমানে খুলনা অঞ্চলের একমাত্র ট্রেন যেটি যমুনা সেতু পাড়ি দিয়ে ব্রডগেজ বগিতে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেসে কী কী আসন শ্রেণি আছে?
উত্তর: চিত্রা এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ার (৫০৫ টাকা), প্রথম সিট (৬৭০ টাকা), স্নিগ্ধা (৮৪০ টাকা), প্রথম বার্থ (১,০০৫ টাকা), এসি সিট (১,০০৫ টাকা) ও এসি বার্থ (১,৫০৫ টাকা) — মোট ছয়টি আসন শ্রেণি রয়েছে।
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে কাটব?
উত্তর: eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। কমলাপুর বা খুলনা স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন: চিত্রা এক্সপ্রেসের নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
উত্তর: দর্শনার নিম্নস্থল থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত চিত্রা নদীর নামানুসারে এই ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: সুন্দরবন এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে মিটারগেজে চলে এবং সকালে ঢাকা ছাড়ে। চিত্রা এক্সপ্রেস যমুনা সেতু হয়ে ব্রডগেজে চলে এবং সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়ে — এটিই দুটি ট্রেনের মূল পার্থক্য।