সুন্দরবন এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭২৫/৭২৬) ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নামানুসারে নামকরণ করা এই ট্রেনটি ২০০৩ সালের ১৭ আগস্ট থেকে ঢাকা–খুলনা রেলপথে যাত্রীসেবা দিয়ে আসছে।
ট্রেনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ট্রেন হিসেবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। দীর্ঘ ২০ বছর যমুনা সেতু হয়ে চলার পর ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল শুরু করে। এতে ঢাকা থেকে খুলনার যাত্রার সময় প্রায় ৯ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র সাড়ে ৭ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। নতুন রুটেও ট্রেনটির জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।
ট্রেনের মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | সুন্দরবন এক্সপ্রেস |
| ট্রেন নং (আপ) | ৭২৫ |
| ট্রেন নং (ডাউন) | ৭২৬ |
| রুট | খুলনা – পদ্মা সেতু – ঢাকা (কমলাপুর) |
| চালু হয় | ১৭ আগস্ট ২০০৩ |
| পদ্মা সেতু রুটে | ১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে |
| সাপ্তাহিক বন্ধ (৭২৫) | মঙ্গলবার |
| সাপ্তাহিক বন্ধ (৭২৬) | বুধবার |
| পরিচালনা | বাংলাদেশ রেলওয়ে |
সময়সূচী
৭২৫ নং সুন্দরবন এক্সপ্রেস (খুলনা → ঢাকা)
(সাপ্তাহিক বন্ধ: মঙ্গলবার)
| স্টেশন | সময় |
|---|---|
| খুলনা | রাত ২১:৪৫ (প্রস্থান) |
| দৌলতপুর | রাত ২১:৫৬ |
| নওয়াপাড়া | রাত ২২:২১ |
| যশোর | রাত ২২:৫২ |
| মোবারকগঞ্জ | রাত ২৩:২৩ |
| কোটচাঁদপুর | রাত ২৩:৩৭ |
| চুয়াডাঙ্গা | রাত ০০:২০ |
| আলমডাঙ্গা | রাত ০০:৩৯ |
| পোড়াদহ | রাত ০০:৫৬ |
| কুষ্টিয়া | রাত ০১:১২ |
| রাজবাড়ী | রাত ০২:২০ |
| ফরিদপুর | রাত ০২:৫৭ |
| ভাঙ্গা | রাত ০৩:৪৫ |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ভোর ০৫:১০ (আগমন) |
৭২৬ নং সুন্দরবন এক্সপ্রেস (ঢাকা → খুলনা)
(সাপ্তাহিক বন্ধ: বুধবার)
| স্টেশন | সময় |
|---|---|
| ঢাকা (কমলাপুর) | সকাল ০৮:০০ (প্রস্থান) |
| ভাঙ্গা | সকাল ০৯:২৬ |
| ফরিদপুর | সকাল ১০:০৫ |
| রাজবাড়ী | সকাল ১০:৪০ |
| কুষ্টিয়া | সকাল ১১:৪৭ |
| পোড়াদহ | দুপুর ১২:১৫ |
| আলমডাঙ্গা | দুপুর ১২:৩৫ |
| চুয়াডাঙ্গা | দুপুর ১২:৫৩ |
| দর্শনা | দুপুর ০১:২১ |
| কোটচাঁদপুর | দুপুর ০১:৪৮ |
| মোবারকগঞ্জ | দুপুর ০২:০২ |
| যশোর | দুপুর ০২:৩২ |
| নওয়াপাড়া | দুপুর ০৩:০৩ |
| দৌলতপুর | দুপুর ০৩:৩০ |
| খুলনা | বিকাল ১৫:৪০ (আগমন) |
📌 সর্বশেষ সময়সূচী যাচাইয়ের জন্য eticket.railway.gov.bd দেখুন।
স্টপেজ তালিকা
৭২৫ (খুলনা → ঢাকা):
খুলনা → দৌলতপুর → নওয়াপাড়া → যশোর → মোবারকগঞ্জ → কোটচাঁদপুর → চুয়াডাঙ্গা → আলমডাঙ্গা → পোড়াদহ → কুষ্টিয়া → রাজবাড়ী → ফরিদপুর → ভাঙ্গা → ঢাকা (কমলাপুর)
৭২৬ (ঢাকা → খুলনা):
ঢাকা (কমলাপুর) → ভাঙ্গা → ফরিদপুর → রাজবাড়ী → কুষ্টিয়া → পোড়াদহ → আলমডাঙ্গা → চুয়াডাঙ্গা → দর্শনা → কোটচাঁদপুর → মোবারকগঞ্জ → যশোর → নওয়াপাড়া → দৌলতপুর → খুলনা
ভাড়ার তালিকা (১৫% ভ্যাটসহ)
| আসন বিভাগ | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬২৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,১৯৬ টাকা |
| এসি সিট (কেবিন) | ১,৪৩২ টাকা |
| এসি বার্থ (শোয়ার ব্যবস্থা) | ২,১৫১ টাকা |
📌 রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ ভাড়া জানতে eticket.railway.gov.bd দেখুন।
টিকিট বুকিং
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে অনলাইনে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই কাটা যাবে। এছাড়া কমলাপুর বা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। ট্রেনটির টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি, তাই ভ্রমণের অন্তত ৩–৪ দিন আগে টিকিট বুক করে রাখা উচিত।
📌 সর্বশেষ আপডেট পেতে এই পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস — ১০টি FAQ:
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, পোড়াদহ, যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত চলে। মোট ১৫টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
খুলনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর ৭২৫ এবং ঢাকা থেকে খুলনাগামী ট্রেনের নম্বর ৭২৬।
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেস কোন কোন দিন বন্ধ থাকে?
৭২৫ নং ট্রেন (খুলনা→ঢাকা) প্রতি মঙ্গলবার এবং ৭২৬ নং ট্রেন (ঢাকা→খুলনা) প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে। দুটি ট্রেনের বন্ধের দিন আলাদা, তাই আগে থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
প্রশ্ন: খুলনা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
৭২৫ নং ট্রেন খুলনা থেকে রাত ২১:৪৫ মিনিটে ছাড়ে এবং পরদিন ভোর ০৫:১০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুরে পৌঁছায়।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
৭২৬ নং ট্রেন ঢাকার কমলাপুর থেকে সকাল ০৮:০০ মিনিটে ছাড়ে এবং বিকাল ১৫:৪০ মিনিটে খুলনা পৌঁছায়। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেস কি পদ্মা সেতু দিয়ে যায়?
হ্যাঁ। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ট্রেন যা পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছে।
প্রশ্ন: পদ্মা সেতু রুটে যাত্রার সময় কমেছে?
হ্যাঁ। আগে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে খুলনা যেতে প্রায় ৯ ঘণ্টা লাগত। পদ্মা সেতু রুটে এখন মাত্র সাড়ে ৭ ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে খুলনা ভাড়া কত?
শোভন চেয়ার ৬২৫ টাকা, স্নিগ্ধা ১,১৯৬ টাকা, এসি সিট ১,৪৩২ টাকা এবং এসি বার্থ ২,১৫১ টাকা। সব ভাড়া ১৫% ভ্যাটসহ।
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে কাটব?
eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে বিকাশ, নগদ বা রকেটে পেমেন্ট করে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। স্টেশন কাউন্টার থেকেও টিকিট পাওয়া যাবে। তবে চাহিদা বেশি থাকায় ৩–৪ দিন আগে বুক করা ভালো।
প্রশ্ন: সুন্দরবন এক্সপ্রেসের নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নামানুসারে এই ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে।