কুশিয়ারা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ১৭/১৮) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি জনপ্রিয় যাত্রীবাহী ট্রেন। ট্রেনটি আখাউড়া জংশন থেকে সিলেট পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথে চলাচল করে। যাত্রাপথে এটি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাকে সিলেটের সাথে সংযুক্ত করে, যা এই দুই জেলার লক্ষ লক্ষ যাত্রীর কাছে ট্রেনটিকে অপরিহার্য করে তুলেছে। আখাউড়া → শায়েস্তাগঞ্জ → কুলাউড়া → সিলেট — এই মূল রুটে প্রায় সকল স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে ট্রেনটি চলে, ফলে ছোট-বড় সব এলাকার মানুষ এটি সহজে ব্যবহার করতে পারেন।
ট্রেনের মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | কুশিয়ারা এক্সপ্রেস |
| ট্রেন নং (আপ) | ১৭ |
| ট্রেন নং (ডাউন) | ১৮ |
| রুট | আখাউড়া – সিলেট |
| গেজ | মিটারগেজ |
| পরিচালনা | বাংলাদেশ রেলওয়ে |
সময়সূচী
ট্রেন নং ১৭ (আখাউড়া → সিলেট)
| স্টেশন | সময় |
|---|---|
| আখাউড়া | সকাল ০৬:০০ (প্রস্থান) |
| সিলেট | দুপুর ০২:০০ (আগমন) |
ট্রেন নং ১৮ (সিলেট → আখাউড়া)
| স্টেশন | সময় |
|---|---|
| সিলেট | বিকাল ০৪:১০ (প্রস্থান) |
| আখাউড়া | রাত ১১:৫০ (আগমন) |
📌 মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর বিস্তারিত সময়সূচীর জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd দেখুন।
স্টপেজ তালিকা
কুশিয়ারা এক্সপ্রেস আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত যাত্রাপথে নিচের স্টেশনগুলোতে থামে:
| ক্রম | স্টেশনের নাম |
|---|---|
| ১ | আখাউড়া জংশন |
| ২ | আজমপুর |
| ৩ | সিঙ্গারবিল |
| ৪ | মেরাসনি |
| ৫ | মুকুন্দপুর |
| ৬ | হরষপুর |
| ৭ | কাশিমনগর |
| ৮ | মনতলা |
| ৯ | শাহপুর |
| ১০ | তেলিয়াপাড়া |
| ১১ | ইটাখোলা |
| ১২ | নোয়াপাড়া |
| ১৩ | ছাতিয়ান |
| ১৪ | শাহজিবাজার |
| ১৫ | সুতাং |
| ১৬ | শায়েস্তাগঞ্জ জংশন |
| ১৭ | লস্করপুর |
| ১৮ | সাটিয়াজুড়ি |
| ১৯ | রশিদপুর |
| ২০ | সাতগাঁও |
| ২১ | শ্রীমঙ্গল |
| ২২ | ভানুগাছ |
| ২৩ | শমসেরনগর |
| ২৪ | মনু |
| ২৫ | টিলাগাঁও |
| ২৬ | লংলা |
| ২৭ | কুলাউড়া জংশন |
| ২৮ | ছকাপন |
| ২৯ | বরমচাল |
| ৩০ | ভাটোরা বাজার |
| ৩১ | মাইজগাঁও |
| ৩২ | ফেঞ্চুগঞ্জ |
| ৩৩ | মোগলাবাজার |
| ৩৪ | সিলেট |
ভাড়ার তালিকা
📌 সর্বশেষ ও নির্ভুল ভাড়া জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে যাচাই করুন। আসন শ্রেণি অনুযায়ী ভাড়া ভিন্ন হয় এবং যাত্রার দূরত্বের উপর নির্ভর করে কম-বেশি হতে পারে।
| আসন বিভাগ | ভাড়া (আনুমানিক) |
|---|---|
| শোভন | আপডেট আসছে |
| শোভন চেয়ার | আপডেট আসছে |
| প্রথম সিট | আপডেট আসছে |
| প্রথম বার্থ | আপডেট আসছে |
টিকিট বুকিং
কুশিয়ারা এক্সপ্রেসের টিকিট আখাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনসহ সকল কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যায় এবং ট্রেনের ভিতর থেকে ও কাটা হয়।
FAQ:
১. কুশিয়ারা এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?
কুশিয়ারা এক্সপ্রেস আখাউড়া জংশন থেকে সিলেট পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথে চলে। পথে শায়েস্তাগঞ্জ ও কুলাউড়া জংশনসহ মোট ৩৪টি স্টেশনে থামে এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাকে সিলেটের সাথে সংযুক্ত করে।
২. কুশিয়ারা এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
আখাউড়া থেকে সিলেটগামী ট্রেনের নম্বর ১৭ এবং সিলেট থেকে আখাউড়াগামী ফিরতি ট্রেনের নম্বর ১৮।
৩. আখাউড়া থেকে কুশিয়ারা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
১৭ নং ট্রেন আখাউড়া থেকে সকাল ০৬:০০ মিনিটে ছাড়ে এবং দুপুর ০২:০০ মিনিটে সিলেট পৌঁছায়। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৮ ঘণ্টা।
৪. সিলেট থেকে কুশিয়ারা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
১৮ নং ট্রেন সিলেট থেকে বিকাল ০৪:১০ মিনিটে ছাড়ে এবং রাত ১১:৫০ মিনিটে আখাউড়া পৌঁছায়।
৫. শ্রীমঙ্গল থেকে কি কুশিয়ারা এক্সপ্রেসে ওঠা যায়?
হ্যাঁ। শ্রীমঙ্গল কুশিয়ারা এক্সপ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ। শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রীরা সহজেই আখাউড়া বা সিলেট উভয় দিকে যেতে পারেন।
৬. কুশিয়ারা এক্সপ্রেস কি হবিগঞ্জ জেলায় থামে?
হ্যাঁ। কুশিয়ারা এক্সপ্রেস হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ জংশনসহ একাধিক স্টেশনে থামে। শায়েস্তাগঞ্জ এই রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন।
৭. কুলাউড়া থেকে সিলেট কুশিয়ারা এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?
কুলাউড়া জংশন থেকে সিলেট পর্যন্ত কুশিয়ারা এক্সপ্রেসে মধ্যবর্তী স্টেশনে বিরতিসহ প্রায় ১–১.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অফিসিয়াল সময়সূচী দেখুন।
৮. কুশিয়ারা এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে অথবা আখাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও সিলেট স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা যাবে।
৯. কুশিয়ারা এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ও চলাচলের বিস্তারিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে সর্বশেষ সময়সূচী যাচাই করে নিন।
১০. কুশিয়ারা এক্সপ্রেসের নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নদী কুশিয়ারা নদীর নামানুসারে এই ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে। কুশিয়ারা নদী সুরমা নদীর একটি শাখা এবং সিলেট বিভাগের সাথে এর গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।