টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস: ঢাকা–সিলেটের নতুন যুগের সূচনা

বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে ঢাকা–সিলেট রুটে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে সরকার একটি নতুন ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছে। ট্রেনটির নাম রাখা হয়েছে টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস, যা সুনামগঞ্জ জেলার বিখ্যাত মিঠাপানির হাওর টাঙ্গুয়ার হাওরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে এমপি ইমরান আহমেদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এই ট্রেন চালুর ঘোষণা দেন।

কেন টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস?

ঢাকা–সিলেট রুটটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম রেলরুট। প্রবাসীসহ লক্ষ লক্ষ যাত্রী প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করেন। বর্তমানে এই রুটে মাত্র ৪ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যা ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামলাতে অপ্রতুল। টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস চালু হলে এই সংখ্যা ৫ জোড়ায় উন্নীত হবে এবং যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

ট্রেনের তথ্য (সম্ভাব্য)

বিষয়তথ্য
ট্রেনের নামটাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস
ট্রেন নং (আপ)৯৯৯
ট্রেন নং (ডাউন)১০০০
রুটঢাকা – সিলেট
ধরনননস্টপ আন্তঃনগর
গেজমিটারগেজ
আনুষ্ঠানিক যাত্রা০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সম্ভাব্য)

সম্ভাব্য স্টপেজ তালিকা

টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস ননস্টপ হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিরতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে:

১. ঢাকা (কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন) — উৎস
২. বিমানবন্দর (ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন)
৩. শ্রীমঙ্গল (চা বাগানের শহর)
৪. সিলেট — গন্তব্য

সম্ভাব্য সময়সূচী

🕐 নিচের সময়সূচী সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক। ট্রেনটি চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল সময়সূচী অনুযায়ী এই তথ্য আপডেট করা হবে।

ট্রেন নং ৯৯৯ (ঢাকা → সিলেট)

স্টেশনআগমনপ্রস্থান
ঢাকাআপডেট আসছে
বিমানবন্দরআপডেট আসছেআপডেট আসছে
শ্রীমঙ্গলআপডেট আসছেআপডেট আসছে
সিলেটআপডেট আসছে

ট্রেন নং ১০০০ (সিলেট → ঢাকা)

স্টেশনআগমনপ্রস্থান
সিলেটআপডেট আসছে
শ্রীমঙ্গলআপডেট আসছেআপডেট আসছে
বিমানবন্দরআপডেট আসছেআপডেট আসছে
ঢাকাআপডেট আসছে

চালু হতে দেরি কেন?

সরকার ট্রেনটি চালুর অনুমোদন দিলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু নির্ভর করছে নতুন রোলিং স্টক সংগ্রহের উপর। বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন ২০০টি মিটারগেজ কোচ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিকিট বুকিং

টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসের টিকিট বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে এবং নির্ধারিত রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ট্রেনটি চালু হওয়ার পর টিকিট বুকিং শুরু হবে।

 

FAQ:

১. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?
টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস ঢাকা কমলাপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত চলাচল করে। পথে ঢাকা বিমানবন্দর ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে বিরতি দেয়। এটি ঢাকা–সিলেট রুটের ৫ম আন্তঃনগর ট্রেন।

২. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনের নম্বর ৯৯৯ এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী ফিরতি ট্রেনের নম্বর ১০০০

৩. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস সপ্তাহে কতদিন চলে এবং কোন দিন বন্ধ?
সর্বশেষ সময়সূচী অনুযায়ী সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ও চলাচলের দিনের তথ্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে যাচাই করে নিন। এই পেজ আপডেট হওয়ার সাথে সাথে তথ্য এখানেও যোগ করা হবে।

৪. ঢাকা থেকে সিলেট টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?
টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস একটি ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় মাত্র তিনটি বিরতিতে ঢাকা থেকে সিলেট পৌঁছায়। সঠিক যাত্রার সময় জানতে এই পেজের সময়সূচী টেবিল দেখুন।

৫. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসের নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
সুনামগঞ্জ জেলার বিখ্যাত মিঠাপানির হাওর টাঙ্গুয়ার হাওরের নামানুসারে এই ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট।

৬. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। এছাড়া ঢাকা কমলাপুর ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব।

৭. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসে কী কী আসন শ্রেণি পাওয়া যায়?
আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসে শোভন, শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) সহ বিভিন্ন আসন শ্রেণি থাকার কথা। সর্বশেষ আসন বিভাগ ও ভাড়া জানতে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন।

৮. শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট যেতে টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেসে কতক্ষণ লাগে?
শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট পর্যন্ত নির্দিষ্ট যাত্রার সময় জানতে এই পেজের সময়সূচী টেবিল দেখুন। সময়সূচী চূড়ান্ত হওয়ার সাথে সাথে তথ্য আপডেট করা হবে।

৯. টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস চালুর পেছনে কারণ কী?
ঢাকা–সিলেট রুটে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যাত্রীচাপ বিদ্যমান। মাত্র ৪ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনে এই রুটের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছিল না। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ঢাকা–সিলেট যোগাযোগ আরও সহজ করতে সরকার এই ৫ম ট্রেনটি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

১০. ভবিষ্যতে ঢাকা–সিলেট রেলপথে আর কী পরিবর্তন আসছে?
সরকার ভবিষ্যতে ঢাকা–সিলেট রেলপথকে ডুয়াল গেজ বা ব্রডগেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে। এই রূপান্তর সম্পন্ন হলে এই রুটে ট্রেনের গতি ও যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।