উপকূল এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭১১–৭১২) নোয়াখালী থেকে ঢাকা কমলাপুর পর্যন্ত চলাচলকারী একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন। ১৯৮৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই ট্রেনটি বর্তমানে সক্রিয়ভাবে চলাচল করছে এবং কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুরসহ একাধিক জেলাকে ঢাকার সাথে সংযুক্ত করে। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্বিতীয় আন্তঃনগর মিটারগেজ ট্রেন হিসেবে পরিচিত।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১০ই আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া সময়সূচীতে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে ঢাকা থেকে নোয়াখালী মঙ্গলবার এবং নোয়াখালী থেকে ঢাকা বুধবার বন্ধ থাকত। নতুন নিয়মে, ঢাকাগামী ৭১১ নম্বর ট্রেন প্রতি বৃহস্পতিবার এবং নোয়াখালীগামী ৭১২ নম্বর ট্রেন প্রতি বুধবার বন্ধ থাকবে।
স্বল্প ভাড়া, আরামদায়ক যাত্রা ও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে এই ট্রেনটি উপকূলীয় জেলার যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
সাপ্তাহিক বন্ধের দিন
- ৭১১ (নোয়াখালী → ঢাকা): প্রতি বৃহস্পতিবার বন্ধ
- ৭১২ (ঢাকা → নোয়াখালী): প্রতি বুধবার বন্ধ
নোয়াখালী থেকে ঢাকা (৭১১) সময়সূচী
| স্টেশন | ছাড়ে/পৌঁছায় |
|---|---|
| নোয়াখালী জংশন | ছাড়ে ০৬:০০ |
| মাইজদী কোর্ট | ০৬:০৭ |
| চৌমুহনী | ০৬:২৩–০৬:২৫ |
| বজরা | ০৬:৩৪–০৬:৩৬ |
| সোনাইমুড়ী | ০৬:৪৫–০৬:৪৭ |
| নাথেরপেটুয়া | ০৭:০০–০৭:০২ |
| লাকসাম জংশন | ০৭:১২–০৭:১৪ |
| কুমিল্লা | ০৭:৫২–০৭:৫৬ |
| কসবা | ০৮:২৪–০৮:২৬ |
| আখাউড়া | ০৮:৫০–০৯:১০ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ০৯:৩১–০৯:৩৩ |
| আশুগঞ্জ | ০৯:৫০–০৯:৫২ |
| নরসিংদী | ১০:৩৫–১০:৩৭ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | ১০:৪৭–১০:৫২ |
| ঢাকা কমলাপুর | পৌঁছায় ১১:২০ |
ঢাকা থেকে নোয়াখালী (৭১২) সময়সূচী
| স্টেশন | ছাড়ে/পৌঁছায় |
|---|---|
| ঢাকা কমলাপুর | ছাড়ে ১৫:১০ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | ১৫:৩৩–১৫:৩৮ |
| নরসিংদী | ১৬:১৭–১৬:১৯ |
| ভৈরব বাজার জংশন | ১৬:৫০–১৬:৫২ |
| আশুগঞ্জ | ১৭:০০–১৭:০২ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৭:১৭–১৭:১৯ |
| আখাউড়া জংশন | ১৭:৪৭–১৭:৪৯ |
| কসবা | ১৮:০৬–১৮:০৮ |
| কুমিল্লা | ১৮:২৫–১৮:৩০ |
| লাকসাম জংশন | ১৯:০০–১৯:০২ |
| নাথেরপেটুয়া | ১৯:১৪–১৯:১৬ |
| সোনাইমুড়ী | ১৯:৪২–১৯:৪৪ |
| বজরা | ১৯:৫৩–১৯:৫৬ |
| চৌমুহনী | ২০:০৪–২০:০৬ |
| মাইজদী কোর্ট | ২০:২০–২০:২২ |
| নোয়াখালী জংশন | পৌঁছায় ২০:৪০ |
টিকেট মূল্য (২০২৬)
| আসন শ্রেণী | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৩১৫ টাকা |
| এসি স্নিগ্ধা | ৫৯৮ টাকা |
অনলাইনে টিকেট কাটলে প্রতি সিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা অনলাইন চার্জ প্রযোজ্য হবে।
অনলাইনে টিকেট বুকিং পদ্ধতি
১. eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন বা লগইন করুন।
২. যাত্রার স্থান ও গন্তব্য স্টেশন সিলেক্ট করুন।
৩. যাত্রার তারিখ ও পছন্দের সিট বেছে নিন।
৪. নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করলেই টিকেট নিশ্চিত হয়ে যাবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নম্বর কত?
নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটির নম্বর ৭১১ এবং ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী ট্রেনটির নম্বর ৭১২।
২. উপকূল এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক কোন দিন বন্ধ থাকে?
৭১১ নম্বর ট্রেন প্রতি বৃহস্পতিবার এবং ৭১২ নম্বর ট্রেন প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে।
৩. নোয়াখালী থেকে ঢাকা যেতে কত সময় লাগে?
নোয়াখালী থেকে সকাল ০৬:০০ টায় ছেড়ে ঢাকা কমলাপুরে পৌঁছাতে প্রায় ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগে (১১:২০ মিনিটে পৌঁছায়)।
৪. ঢাকা থেকে নোয়াখালী উপকূল এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
ঢাকা কমলাপুর থেকে বিকাল ০৩:১০ মিনিটে ছেড়ে নোয়াখালী পৌঁছায় রাত ০৮:৪০ মিনিটে।
৫. শোভন চেয়ারের টিকেট মূল্য কত?
ঢাকা-নোয়াখালী রুটে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩১৫ টাকা (অনলাইন চার্জ ব্যতীত)।
৬. এসি স্নিগ্ধা সিটের ভাড়া কত?
এসি স্নিগ্ধা সিটের ভাড়া ৫৯৮ টাকা।
৭. অনলাইন টিকেট কাটার সময় অতিরিক্ত কোনো চার্জ আছে কি?
হ্যাঁ, প্রতি সিটের জন্য ২০ টাকা অতিরিক্ত অনলাইন চার্জ প্রযোজ্য।
৮. অনলাইনে উপকূল এক্সপ্রেসের টিকেট কীভাবে কাটব?
eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন/লগইন করে যাত্রার স্থান, গন্তব্য ও তারিখ সিলেক্ট করে সিট বুক করা যায়।
৯. উপকূল এক্সপ্রেস কোন কোন জেলার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে?
এই ট্রেনটি কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকা জেলাকে সংযুক্ত করে।
১০. উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন কবে চালু হয়েছিল?
এই ট্রেনটি ১৯৮৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্বিতীয় আন্তঃনগর মিটারগেজ ট্রেন।