ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৩৯/৪০) ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী মিটারগেজ ট্রেন, যা কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত চলাচল করত। যাত্রাপথে ট্রেনটি গাজীপুর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে গমন করত এবং প্রায় প্রতিটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিত, যা স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক ছিল।

দুঃখজনকভাবে, ২০২০ সালের ১২ই মার্চ থেকে ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ট্রেনটির চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

ট্রেন বন্ধ হওয়ার কারণ

ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন সূত্রে একাধিক কারণের কথা শোনা যায়, যদিও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব কারণের সরকারি বা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নথিভুক্ত নেই। প্রচলিত আলোচনায় যেসব কারণ উঠে আসে তা হলো —

  • ইঞ্জিন সমস্যা: পুরনো ও লক্কড়ঝক্কড় ইঞ্জিনের কারণে নিয়মিত চলাচলে বিঘ্ন ঘটত বলে জানা যায়।
  • লোকবল সংকট: পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে ট্রেনটি পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।
  • কোচ সংকট: পর্যাপ্ত কোচ না থাকায় ট্রেনটি নিয়মিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়।

এছাড়া কিছু কিছু সূত্রে বাস সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যায় — তবে এটি একটি অসমর্থিত ও বিতর্কিত অভিযোগ মাত্র, যার কোনো সরকারি বা প্রামাণ্য নিশ্চিতকরণ নেই। তাই এই ধরনের দাবিকে গুজব বা জনশ্রুতি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।

 

যাত্রাপথ ও স্টেশন তালিকা

ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস কমলাপুর, টঙ্গী, ভৈরব বাজার, গৌরীপুর হয়ে ময়মনসিংহ পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথে চলাচল করত। উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলোর মধ্যে ছিল:

কমলাপুর, তেজগাঁও, বনানী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর, টঙ্গী জংশন, পুবাইল, ঘোড়াশাল, নরসিংদী, ভৈরব বাজার জংশন, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ, নান্দাইল রোড, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর এবং সবশেষে ময়মনসিংহ জংশন — এছাড়াও যাত্রাপথের প্রায় সব স্টেশনেই ট্রেনটি বিরতি দিত।

 

সময়সূচী (বন্ধ হওয়ার পূর্ববর্তী)

রুটছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়
ঢাকা → ময়মনসিংহসকাল ১১:৩৫রাত ০৯:৪৫
ময়মনসিংহ → ঢাকাদুপুর ১২:০০রাত ১১:০০

 

 সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ট্রেনের নম্বর কত ছিল?
ট্রেনটির নম্বর ছিল ৩৯/৪০।

 

২. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কবে বন্ধ হয়ে যায়?
২০২০ সালের ১২ই মার্চ থেকে ট্রেনটির চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

৩. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস কোন কোন জেলার মধ্য দিয়ে চলাচল করত?
ট্রেনটি গাজীপুর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে চলাচল করত।

 

৪. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস কোন গেজে চলাচল করত?
ট্রেনটি মিটারগেজ রেলপথে চলাচল করত।

 

৫. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস বন্ধ হওয়ার কারণ কী ছিল?
প্রচলিত আলোচনায় ইঞ্জিন সমস্যা, লোকবল সংকট ও কোচ সংকটের কথা বলা হয়, তবে এসবের কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।

 

৬. বাস সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ কতটা সত্য?
এটি একটি অসমর্থিত জনশ্রুতি মাত্র, যার কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই।

 

৭. ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে কত সময় লাগত?
সকাল ১১:৩৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ০৯:৪৫ মিনিটে পৌঁছাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগত।

 

৮. ট্রেনটি কোন কোন প্রধান স্টেশনে থামত?
টঙ্গী, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ, গৌরীপুর ও ময়মনসিংহসহ যাত্রাপথের প্রায় সব স্টেশনে থামত।

 

৯. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস কি আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
বর্তমানে এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি ঘোষণা নেই।

 

১০. ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস কোন স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করত?
ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করত।