জালালাবাদ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ১৩/১৪) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন যা সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথে চলাচল করত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘ রুটের ট্রেন হিসেবে পরিচিত ছিল। যাত্রাপথে সিলেট → কুলাউড়া → শায়েস্তাগঞ্জ → আখাউড়া → লাকসাম → চট্টগ্রাম এই মূল রুটে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী জেলাকে সংযুক্ত করে চলাচল করত।
মোট পাঁচটি কোচ নিয়ে চলা জালালাবাদ এক্সপ্রেসের দুটি কোচ মালামাল পরিবহন করত এবং তিনটিতে যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। ট্রেনটি প্রায় সব ছোট-বড় স্টেশনে যাত্রাবিরতি করত, ফলে দুই বিভাগের মাঝের অনেক প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও এটি ব্যবহার করতে পারতেন।
ট্রেনের মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | জালালাবাদ এক্সপ্রেস |
| ট্রেন নং (আপ) | ১৩ |
| ট্রেন নং (ডাউন) | ১৪ |
| রুট | সিলেট – চট্টগ্রাম |
| গেজ | মিটারগেজ |
| মোট কোচ | ৫টি (৩টি যাত্রী + ২টি মালামাল) |
| বর্তমান অবস্থা | অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ (ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে) |
| পরিচালনা | বাংলাদেশ রেলওয়ে |
সময়সূচী (বন্ধের আগের তথ্য)
১৩ নং জালালাবাদ এক্সপ্রেস (চট্টগ্রাম → সিলেট)
| স্টেশন | সময় |
|---|---|
| চট্টগ্রাম | রাত ২০:১৫ (প্রস্থান) |
| সিলেট | দুপুর ১২:১৫ (আগমন — পরদিন) |
১৪ নং জালালাবাদ এক্সপ্রেস (সিলেট → চট্টগ্রাম)
| স্টেশন | সময় |
|---|---|
| সিলেট | রাত ২৩:০০ (প্রস্থান) |
| চট্টগ্রাম | দুপুর ১২:০০ (আগমন — পরদিন) |
⚠️ ট্রেনটি বর্তমানে বন্ধ থাকায় উপরের সময়সূচী শুধুমাত্র ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে সংরক্ষিত। পুনরায় চালু হলে এই পেজ আপডেট করা হবে।
সম্পূর্ণ স্টপেজ তালিকা
জালালাবাদ এক্সপ্রেস সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নিচের স্টেশনগুলোতে থামত:
সিলেট → মোগলাবাজার → ফেঞ্চুগঞ্জ → মাইজগাঁও → ভাটোরা বাজার → বরমচাল → ছকাপন → কুলাউড়া জংশন → লংলা → টিলাগাঁও → মনু → শমসেরনগর → ভানুগাছ → শ্রীমঙ্গল → সাতগাঁও → রশিদপুর → সাটিয়াজুড়ি → লস্করপুর → শায়েস্তাগঞ্জ জংশন → সুতাং → শাহজিবাজার → ছাতিয়ান → নোয়াপাড়া → ইটাখোলা → তেলিয়াপাড়া → শাহপুর → মনতলা → কাশিমনগর → হরষপুর → মুকুন্দপুর → মেরাসনি → সিঙ্গারবিল → আজমপুর → আখাউড়া জংশন → গঙ্গাসাগর → ইমামবাড়ী → কসবা → মন্দবাগ → সালদানদী → শশীদল → রাজাপুর → সদর রসুলপুর → কুমিল্লা → ময়নামতি → লালমাই → আলীশ্বর → লাকসাম জংশন → নাওটি → নাঙ্গলকোট → হাসানপুর → গুণবতী → শর্শদি → ফেনী জংশন → কালিদহ → ফাজিলপুর → মুহুরীগঞ্জ → চিনকী আস্তানা → মাস্তাননগর → মীরসরাই → বারতাকিয়া → নিজামপুর কলেজ → বারৈয়াঢালা → সীতাকুন্ড → বাড়বকুন্ড → কুমিরা → ভাটিয়ারী → ফৌজদারহাট → কৈবল্যধাম → পাহাড়তলী → চট্টগ্রাম
ভাড়ার তালিকা
⚠️ ট্রেনটি বর্তমানে বন্ধ থাকায় ভাড়ার তালিকা আপডেট স্থগিত রয়েছে। পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী তথ্য আপডেট করা হবে।
| আসন বিভাগ | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন | আপডেট আসছে |
| শোভন চেয়ার | আপডেট আসছে |
⚠️ বিশেষ নোটিশ: জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। কন্টেইনার পরিবহনে গতি আনার লক্ষ্যে ট্রেনটির ইঞ্জিন কন্টেইনারবাহী ট্রেনে যুক্ত করা হয়েছে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়। শেষবার ১৪ নং ট্রেনটি ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। এই পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন — ট্রেনটি পুনরায় চালু হলে সম্পূর্ণ সময়সূচী ও ভাড়া তালিকাসহ আপডেট করা হবে।
সাধারারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেস কি এখন চলছে?
উত্তর: না। জালালাবাদ এক্সপ্রেস ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। ট্রেনটির ইঞ্জিন কন্টেইনারবাহী ট্রেনে যুক্ত করার কারণে এটি বন্ধ করা হয়। পুনরায় চালু হলে এই পেজে আপডেট দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনের নম্বর ১৩ এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের নম্বর ১৪।
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেস কোন রুটে চলত?
উত্তর: জালালাবাদ এক্সপ্রেস সিলেট থেকে কুলাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, আখাউড়া ও লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথে চলত এবং পথে প্রায় সব স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিত।
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেস কোন কোন জেলার মধ্য দিয়ে যেত?
উত্তর: যাত্রাপথে ট্রেনটি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী — মোট পাঁচটি জেলাকে সিলেট ও চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত করত।
প্রশ্ন: সিলেট থেকে জালালাবাদ এক্সপ্রেস কখন ছাড়ত?
উত্তর: ১৪ নং ট্রেন সিলেট থেকে রাত ২৩:০০ মিনিটে ছাড়ত এবং পরদিন দুপুর ১২:০০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাত।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম থেকে জালালাবাদ এক্সপ্রেস কখন ছাড়ত?
উত্তর: ১৩ নং ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে রাত ২০:১৫ মিনিটে ছাড়ত এবং পরদিন দুপুর সোয়া ১২টায় সিলেট পৌঁছাত।
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেস বন্ধ হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: কন্টেইনার পরিবহনে গতি আনার লক্ষ্যে জালালাবাদ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন কন্টেইনারবাহী ট্রেনে যুক্ত করা হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রেল ভবন থেকে ট্রেনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশনা পাওয়া হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থেকে কি জালালাবাদ এক্সপ্রেসে উঠা যেত?
উত্তর: হ্যাঁ। শ্রীমঙ্গল জালালাবাদ এক্সপ্রেসের একটি স্টপেজ ছিল। তবে বর্তমানে ট্রেনটি বন্ধ থাকায় শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট বা চট্টগ্রামগামী বিকল্প ট্রেন ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেস পুনরায় চালু হলে কীভাবে জানব?
উত্তর: এই পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন। ট্রেনটি পুনরায় চালু হওয়ার সাথে সাথে সম্পূর্ণ সময়সূচী, ভাড়া তালিকা ও স্টেশনের বিস্তারিত তথ্য এখানে আপডেট করা হবে।
প্রশ্ন: জালালাবাদ এক্সপ্রেস বন্ধ থাকায় সিলেট–চট্টগ্রাম রুটে বিকল্প কী?
উত্তর: সিলেট–চট্টগ্রাম রুটে বর্তমানে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেস চলাচল করছে। টিকিটের জন্য eticket.railway.gov.bd দেখুন।