তূর্ণা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৪১/৭৪২) বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি দ্রুতগতি ও বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন, যা রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে রাতে চলাচল করে। রেলপথে মোট ৩২১ কিলোমিটার দূরত্বের এই যাত্রায় ট্রেনটি মাত্র ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছায়, যা এই রুটের অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত।

১৯৮৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা তূর্ণা এক্সপ্রেস প্রথমে ঢাকা–দোহাজারি রুটে চলত। ২০০২ সাল থেকে এটি ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচল শুরু করে এবং তখন থেকে এই রুটের রাতের যাত্রীদের সবচেয়ে পছন্দের ট্রেনে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে এটি মহানগর প্রভাতী/গোধূলীর সাথে রেক শেয়ারিং করে চলাচল করছে।

বর্তমানে তূর্ণা এক্সপ্রেস কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত অত্যাধুনিক কোচ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণত ১৮টি কোচে চলে যার মধ্যে ৫টি এসি চেয়ার, ৩টি এসি স্লিপার, ১টি নন-এসি স্লিপার, ৬টি শোভন চেয়ার, ২টি শোভন চেয়ার গার্ডব্রেক ও খাবার গাড়ি এবং ১টি পাওয়ার কার রয়েছে। ঈদসহ বিশেষ উৎসবের সময় ট্রেনটি ২১টি কোচে পরিচালিত হয়।

ট্রেনের মূল তথ্য

বিষয়তথ্য
ট্রেনের নামতূর্ণা এক্সপ্রেস
ট্রেন নং (আপ)৭৪১
ট্রেন নং (ডাউন)৭৪২
রুটচট্টগ্রাম – ঢাকা (কমলাপুর)
রেলপথ দূরত্ব৩২১ কিলোমিটার
উদ্বোধন১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮
সাপ্তাহিক বন্ধনেই (প্রতিদিন চলে)
পরিচালনাবাংলাদেশ রেলওয়ে

সময়সূচী

৭৪২ নং তূর্ণা এক্সপ্রেস (ঢাকা → চট্টগ্রাম)

স্টেশনসময়
ঢাকা (কমলাপুর)রাত ২৩:১৫ (প্রস্থান)
বিমানবন্দররাত ২৩:৪০
ভৈরব বাজাররাত ০০:৫০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ারাত ০১:১২
আখাউড়ারাত ০১:৪৭
কুমিল্লাভোর ০২:৩৫
লাকসামভোর ০৩:০০
ফেনীভোর ০৩:৪০
চট্টগ্রামসকাল ০৫:১৫ (আগমন)

৭৪১ নং তূর্ণা এক্সপ্রেস (চট্টগ্রাম → ঢাকা)

স্টেশনসময়
চট্টগ্রামরাত ২৩:৩০ (প্রস্থান)
ফেনীরাত ০০:৫০
লাকসামরাত ০১:৩০
কুমিল্লারাত ০১:৫৫
আখাউড়াভোর ০২:৪৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়াভোর ০৩:০৭
ভৈরব বাজারভোর ০৩:৩০
ঢাকা বিমানবন্দরসকাল ০৪:৪৫
ঢাকা (কমলাপুর)সকাল ০৫:১০ (আগমন)

📌চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি, স্টপেজ  ও টিকিট ভাড়া

স্টপেজ তালিকা

৭৪২ (ঢাকা → চট্টগ্রাম):
ঢাকা (কমলাপুর)বিমানবন্দরভৈরব বাজারব্রাহ্মণবাড়িয়াআখাউড়াকুমিল্লালাকসামফেনীচট্টগ্রাম

৭৪১ (চট্টগ্রাম → ঢাকা):
চট্টগ্রামফেনীলাকসামকুমিল্লাআখাউড়াব্রাহ্মণবাড়িয়াভৈরব বাজারঢাকা বিমানবন্দরঢাকা (কমলাপুর)

ভাড়ার তালিকা

📌মহানগর এক্সপ্রেস (Mahanagar Express) ট্রেনের সময়সূচী, স্টপেজ ও ভাড়ার তালিকা

ঢাকা → চট্টগ্রাম (সম্পূর্ণ রুট)

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার৪০৫ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৭৭৭ টাকা
প্রথম শ্রেণী (নন-এসি কেবিন)৯৮২ টাকা
এসি কেবিন১,৪৪৮ টাকা

ঢাকা → ফেনী

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার৩০০ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৭৪০ টাকা
নন-এসি কেবিন৭৪০ টাকা
এসি কেবিন৫৭৫ টাকা

ঢাকা → লাকসাম

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার২৫৫ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৪৮৩ টাকা
নন-এসি কেবিন৬৩১ টাকা
এসি কেবিন৯১৯ টাকা

ঢাকা → কুমিল্লা

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার২২৫ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৪৩২ টাকা
নন-এসি কেবিন৫৬৮ টাকা
এসি কেবিন৮২৭ টাকা

ঢাকা → আখাউড়া

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার১৭০ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৩২২ টাকা
নন-এসি কেবিন৪৩৬ টাকা
এসি কেবিন৬২৫ টাকা

ঢাকা → ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার১৫০ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)২৮৮ টাকা
নন-এসি কেবিন৩৯০ টাকা
এসি কেবিন৫৬২ টাকা

ঢাকা → ভৈরব বাজার

আসন বিভাগভাড়া
শোভন চেয়ার১০৫ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)১৯৬ টাকা
নন-এসি কেবিন২৮৬ টাকা
এসি কেবিন৪০১ টাকা

টিকিট বুকিং

তূর্ণা এক্সপ্রেসের টিকিট eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে অনলাইনে কাটা যাবে। এছাড়া কমলাপুর বা চট্টগ্রামসহ যেকোনো নিকটস্থ রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব। রাতের জনপ্রিয় ট্রেন হওয়ায় আসন দ্রুত শেষ হয়, তাই আগে থেকেই বুক করে রাখা ভালো।

📌 পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিট ভাড়া

❓প্রশ্নোত্তর (FAQs)

🚆 তূর্ণা এক্সপ্রেস কোন রুটে চলাচল করে?
তূর্ণা এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাতে চলাচল করে। যাত্রাপথে বিমানবন্দর, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীসহ মোট ৯টি স্টেশনে থামে।

🔢 তূর্ণা এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর ৭৪১ এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের নম্বর ৭৪২

📅 তূর্ণা এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
হ্যাঁ। তূর্ণা এক্সপ্রেসের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই। সপ্তাহের সাত দিনই এটি ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত চলাচল করে।

🌙 ঢাকা থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
৭৪২ নং ট্রেন ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ২৩:১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং পরদিন সকাল ০৫:১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা।

🌅 চট্টগ্রাম থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
৭৪১ নং ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে রাত ২৩:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং পরদিন সকাল ০৫:১০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুরে পৌঁছায়। মোট যাত্রার সময় প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

💺 তূর্ণা এক্সপ্রেসে কী কী আসন শ্রেণি আছে?
তূর্ণা এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), নন-এসি কেবিন ও এসি কেবিন — চারটি আসন শ্রেণি রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পূর্ণ রুটে শোভন চেয়ার ৪০৫ টাকা এবং এসি কেবিন ১,৪৪৮ টাকা।

💰 ঢাকা থেকে কুমিল্লা তূর্ণা এক্সপ্রেসে ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে কুমিল্লা শোভন চেয়ার ২২৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৩২ টাকা, নন-এসি কেবিন ৫৬৮ টাকা এবং এসি কেবিন ৮২৭ টাকা।

🎫 তূর্ণা এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে কাটব?
eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। অনলাইনে প্রতি আসনে ২০ টাকা ও কেবিনে ৫০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য। স্টেশন কাউন্টার থেকেও টিকিট পাওয়া যাবে।

📜 তূর্ণা এক্সপ্রেস কবে থেকে চলছে?
তূর্ণা এক্সপ্রেস ১৯৮৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু করে। প্রথমে ঢাকা–দোহাজারি রুটে চললেও ২০০২ সাল থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলছে।

🔄 তূর্ণা ও মহানগর প্রভাতী/গোধূলী কি রেক শেয়ার করে?
হ্যাঁ। ১৯৯৮ সাল থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস ও মহানগর প্রভাতী/গোধূলী রেক শেয়ারিং করে চলাচল করছে। অর্থাৎ একই কোচ পালাক্রমে দুটি ট্রেনে ব্যবহার করা হয়।